এবার তোরা মানুষ হ

খুব সম্ভবত আইয়ুব খান ই ইতিহাসের একমাত্র স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল ছিলেন। তাঁদের দেশটাও বেশ কয়েক কাঠি সরেস – স্বঘোষিত ‘বিশ্বের একমাত্র মুসলিম রাষ্ট্র’! তাঁদের সেনাবাহিনিও স্বঘোষিত ‘বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম বীর এবং সুশৃঙ্খল বাহিনী’ – যদিও এই পালোয়ানরা আজ পর্যন্ত একটা যুদ্ধেও জিততে পারেনি। ইতিহাস শুধু লজ্জার, পারে শুধু লম্বা লম্বা বাগাড়ম্বর করতে, আর পারে দেশের ভিতরে নিরস্ত্র  নারী-পুরুষ আর শিশুদের সাথে ক্ষাত্র-তেজ দেখাতে!  মানলাম যে তাঁদের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা জনাব ছাগলা 😛  কিন্তু দেশটির নাম পাকিস্তান রাখার বুদ্ধিটা কোনও মানুষের মাথা থেকে বেরিয়েছিল কিনা সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এটি এমন একটি নাম যা কিনা আরবি ভাষায় বানান করা যায় না। যদিও কিছু দুষ্টু ছেলেপুলেরা ইচ্ছা করে ‘প’ এর বদলে ‘ফ’ দিয়ে পাকিস্তান বানান করে, তবে শুনেছি আরবি ভাষায় নাকি অনন্যোপায় হয়ে নামটাকে ‘বাকিস্তান’ লেখে। অনেক দোকানেই লেখা থাকে “বাকী চাহিয়া লজ্জা দিবেন না”  – এটাকে কেউ  “পাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না” পড়তেই পারেন, অর্থের খুব একটা এদিক সেদিক হবেনা।

যাহোক, মূল কথায় আসি। কিছুদিন ধরে ফেসবুকে বিভিন্ন জনের লেখা থেকে জানতে পারলাম তাঁরা নাকি তাঁদের বীরপুঙ্গব সেনাবাহিনী পাঠাবে বাংলাদেশ কে শায়েস্তা করতে। তাঁদের কিছু রাজনৈতিক দল ও কয়েকজন নেতা-ফেতা একটু ঘেউ ঘেউ করছে বটে, কিন্তু তাঁদের জাঁদরেল জেনারেলদের কিন্তু মুখ এবার একেবারে কুলুপ আঁটা। তবে ওই সব ফেসবুক লেখকেরা সর্বান্তকরণে জান-প্রান দিয়ে চাচ্ছেন তাঁরা আসুক, বেত্তমিজ বাংলাদেশকে একটু শিক্ষা দিয়ে যাক। ভালো, খুব ভালো প্রত্যাশা। তাই আমিও একটু ভাবতে বসলাম, যদি আসতেই চায় তাহলে কোন দিক দিয়ে আসতে পারে? জলপথ শব্দটাই কেমন যেন কাফের কাফের টাইপ শোনায়, তাছাড়া বাংলাদেশের নৌবাহিনী এখন অনেক পরিনত ও চৌকশ। ওদিক দিয়ে আসতে গেলে জাহাজ-ডুবোজাহাজ সব বঙ্গোপসাগরের তলায় জমা রেখে বাড়ি যেতে হবে। ‘পানিপথ’ শব্দটা তাঁদের কাছে পছন্দনীয় হতে পারে। কিন্তু সে জায়গাটাও তো পড়েছে দুশমন ইন্ডিয়ার ভিতরে। ৭১ সালে একবার পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ইন্ডিয়ায় ঢুকে এমন প্যাঁদানি খেয়েছিল তা আজ অব্দি ভুলতে পারেনি। ও লাইন ও বাদ, স্থলপথ ও বাদ একই কারনে – বাংলাদেশ দূর অস্ত। বায়ুপথ অর্থাৎ আকাশ পথেও খুব একটা সুবিধা হবে না। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী যে কোন দিক থেকেই আক্রমন প্রতিহত করার ক্ষমতা রাখে। ৭১ সালে  থ্রী-নট-থ্রী দিয়েই সামরিক-অসামরিক ভেতো-বাঙালীরা যে প্যাঁদানি দিয়েছিল, আর আজ তো তারা বিশ্বের সেরা শান্তিরক্ষক বাহিনী! না বাবা জল-স্থল-আকাশ কোনও পথ দিয়েই ওদিকে যাওয়া যাবে না।  তাহলে কোন দিক দিয়ে পেয়ারা পাকি সেনারা বাংলাদেশে আসবে? শুধু মাত্র ওদের জন্যই আরও একটা পথ এখনও খোলা আছে। সেটি হল ‘বায়ুপথ’ – না না আকাশ পথ নয়, ‘বাকিস্তান’ যেমন পাকিস্তান, ‘বায়ুপথ’ ও তেমনি  **পথ … হে হে এই পথটা এক্কেবারেই নিরাপদ। কোনও পাহারা-প্রতিরোধ নাই, বরং খোশ আমদেদ জানানোর জন্য কিছু পুরানো সাগরেদদেরকে চ্যালা চামুণ্ডা সমেত হা করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবেন। ইউরেকা ইউরেকা … তরিকা মিল গ্যায়া … আইয়া পড়েন আইয়া পড়েন, নিশ্চিন্ত মনে আইয়া পড়েন। শুধু যাওনের পথটা বড় কইরা খুইলা রাইখেন, বলা তো যায় না –  আবার কখন কি হয় …

কু-জাতটার কি কোনও কালেও শিক্ষা হবে না?  অনেক তো হল, এবার তোরা মানুষ হ!

Posted on December 19, 2013, in political, satire. Bookmark the permalink. Leave a comment.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: