ডক ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় (ভূমিকা পর্ব)

ভানুঃ (গুনগুন করে নিজের মনে কীর্তন গাইছে
ভজো দুহাত তুলিয়া ভজো কাঞ্চন গোঁসাই …
তাঁর জোরে সবাই তোমায় বাপ ডাকবে ভাই …
ওরে থাকলে তিনি ট্যাঁকের মাঝে বুকে বাড়ে বল …
স্ত্রী পুত্র ভাই বন্ধু তোমার পদতল …
ওরে টাকাই ধর্ম টাকাই কর্ম কলিযুগের সার …
সত্য নিষ্ঠা আইন কানুনের মাথায় ঝাঁটা মার …
ভজো দুহাত তুলিয়া…

আগন্তুকঃ আরে আরে দেখি, রোড ভানু না! তা গাছতলা ছাইড়া এই টিভি চ্যানেলের বারান্দায় বইসা আছো ক্যান?

ভানুঃ  ওয়ালাইকুম… ম ম … ওহ আপনে! এইতো বইসা আছি, একটু পরেই টক-শো এর রেকর্ডিং শুরু হইবো তো, তাই অপেক্ষা করতাছি …

আগন্তুকঃ কও কি! গাছতলা ছাইড়া এক্কেরে টিভি চ্যানেলে…

ভানুঃ আইজ্ঞা আইজ কাইল আমি সব কিছু ছাইড়া ছুইড়া এক্কেরে ফুল-টাইম টক-শো বক্তা হইয়া গেছি। এই একটু জাতির বিবেক গিরি করা আরকি …  হে হে। আপনে তো জানেন ই, প্রথমে লর্ড ভানু হইয়া, টিনের বাক্সে বারো টাকা কইরা লইয়া, লোকজনেরে সর্ববিষয়ে জ্ঞানদানের ব্যাবসা শুরু করছিলাম। কিন্তু বছর না ঘুরতেই পাড়ার মাস্তান, ইনকাম ট্যাক্সের লোকজন আর হরিমোহনের হাকিম পোলার ভয়ে ব্যাবসাপাতি গুটাইয়া গেরুয়া পইরা সাধু সাইজা গাছতলায় বইসা রোড ভানু হইছিলাম। ঝুলিতে আট টাকার বানিজ্যডা খারাপ আছিল না। মাস্তান, সরকারি লোক, মায় হরিমোহনের চৌদ্দ গুষ্টি পর্যন্ত আমারে সকাল বিকাল প্রনাম করতে করতে কাহিল হইয়া গেছিলো। কিন্তু সেসব তো পুরানা আমলের কথা, তহন কি আর এত এত টিভি চ্যানেল আছিল? এখনকার পুরা ডাইনামিকসটাইতো আলাদা হইয়া গেছে, বুঝছেন না? তাই যুগের সাথে তাল মিলাইয়া গেরুয়া ছাইড়া লুঙ্গি-ফতুয়া ধরছি। অনেকে অবশ্য স্যুট-টাই ও ধরছে, তয় ওইডাতে ঠিক পুরাপুরি বিদগ্ধ ভাব ফুইটা ওঠে না। হেঁ হেঁ … জাতির বিবেক বইলা কথা… তাছাড়া এই যুগে এই লাইনের কোনও মাইর নাই, কামাই পাতিও মাশাল্লা … তাই রোড ছাইড়া এখন ডক ভানু হইছি … এই যে এই ন্যান ভিজিটিং কার্ড – নাম ঠিকানা রেট সব লেখা আছে। আইজকা আবার নিউ ইয়ার উপলক্ষ্যে তাগো বিশেষ শো কিনা, আমিই একমাত্র অতিথি বক্তা। প্রযোজকরে আগেই কইয়া রাখছি, যেহেতু দুই জনের জায়গায় আমি একজনেই পুরা শো টাইনা দিমু, তাই আমারে আইজকা ডাবল রেটে পেমেন্ট করতে হইবো…

আগন্তুকঃ হুম, কিন্তু এই “ডক ভানু” কথাডার মর্তবা তো বুঝলাম না? জাহাজ টাহাজ খারাপ হইয়া গ্যালে ডকে উঠায়, তা তোমার শরীল স্বাস্থ্য তো দেইখা ভালই মনে হয়, তুমি আবার ডকে উঠলা ক্যা?

ভানুঃ  আরে না না, এইটা আসলে ইংরেজি টক; মানে আমি পেশাদার টক-শো-বাজ কিনা, তাই টক ভানু। এহন আমগো ঢাকাইয়া ভাষায় অনেক সময় ট রে ড উচ্চারণ করে না? যেমন ধরেন ফাঁটা রে কই ফাডা – হে হে – ঠিক তেমনি কইরা টক হইয়া গ্যাছে ডক। এর ফলে অবশ্য না চাইতেই আরেকটা ফায়দা হাসিল হইয়া গ্যাছে।

আগন্তুকঃ কি রকম? কিরকম? …

ভানুঃ  মনে করেন পশ্চিমা বিশ্বে ডাক্তারগোরে আদর কইরা লোকে ডক বইলা ডাকে। তাই আমার নামের আগেও ‘ডক’ দেইখা অনেকেই ভাবে আমিও বুঝি একজন ডাক্তার, হে হে বোঝেনইতো, এই লাইনে ডাক্তারগো কথার মর্যাদাই আলাদা। আর তাছাড়া এক হিসাবে আমি তো নিজেরে ডাক্তার দাবী করতেই পারি। ওই যে আমাগো রোমোনি কবিরাজ আছিল না? যার দেওয়া হজমি ওষুধ খাইয়া আমার ঠাকুরদাদার বাবা নিজেই হজম হইয়া গেছিল? সেই রোমোনি কবিরাজের মাইয়ার ঘরের আপন নাতনী হইতাছে গিয়া আমার আপন মামীর খালাতো বোন। এহন ভাইবা দ্যাহেন, এত্তবড় ধন্মন্তরি কবিরাজ যখন আমার আপন আত্মীয়, তখন আমিও তো নিজেরে ছোট খাট একজন একজন ডাক্তার বইলা দাবী করতেই পারি, তাই না?

আগন্তুকঃ ধুর ব্যডা, এইগুলা কি এই ভাবে হয় নি? কী সব আজিব কতা কইতাছো!

ভানুঃ আলবৎ হয়, হাজার বার হয়। বাজারে গুজব আছে জাফর ইকবালের নানা আর ইমরানের দাদা নাকি রাজাকার আছিল। এহন হেই যুক্তিতে যদি ইকবাল আর ইমরান দ্যাশ ও জাতির মহাশত্রু হয় তাইলে রোমোনি কবিরাজের আপন আত্মীয় হইয়া আমি ডাক্তার হমু না ক্যান? এরপরে ধরেন, আরএক জাতের আদমি আছে মুক্তিযুদ্ধ লইয়া দিন রাইত গুজব বানায় অথবা জাইনা শুইনা গাঁজাখুরি গুজব ছড়াইয়া বেড়ায়, অথচ এইডা লইয়া কেউ জিগাইলেই চিক্কুর পাইরা কয়, আমার বাপে মুক্তিযোদ্ধা আছিল – আমার শ্বশুরে মুক্তিযোদ্ধা আছিল – হ্যান ত্যান আরও কত কি। তা এতটা রাজাকারি করার পরেও স্রেফ বাপে-শ্বশুরে মুক্তিযোদ্ধা ছিল – এই কারনে হেরা যদি দেশদরদী হইয়া যায় তাইলে আমি ডাক্তার হইতে পারুম না ক্যান? তারও পরে ধরেন, আমাগো ওই মুরুব্বির কথাই কই। একটা কলেজে কয়েক মাস লেকচারার গিরি কইরা যদি সারা জীবনের লাইগ্যা নামের আগে অধ্যাপক লাগাইতে পারে তাইলে আমি পারুম না ক্যান? আমিও তো লর্ড ভানু আর রোড ভানু হইয়া তিন যুগ ধইরা মানুষ জনেরে জ্ঞান বিতরন কইরা আসতাছি, তাইলে আমি ক্যান নামের আগে ডক বসাইতে পারুম না?

আগন্তুকঃ নাহ, তোমার লগে যুক্তিতে পারা যাইবো না…

ভানুঃ হে হে, আগেই তো কইছি, এইডাই আমার বর্তমান পেশা, সব কিছু জানা বোঝার পরেও চোপার জোরে দিন রে রাইত আর রাইত রে দিন বানাইয়াই আমার অন্ন সংস্থান হয় … যাউকগা বাজলো কয়টা? হাঁসফাঁসের সময় বুঝি হইয়া গেল …

আগন্তুকঃ হাঁসফাঁসের সময়? হেইডার মানে কি? হার্টের ব্যারাম ধরছে নাকি?

ভানুঃ  আরে না না, এইডা হইল গলায় ট্যাকার ফাঁস পইরা হাঁস সুলভ আচরন করা। ওহ হো, আপনারে খুইলাই কই। প্রথমে ধরেন এই ফাঁসের ব্যাপারডা, এইখানে পৃষ্ঠপোষকেরা আমাগো গলায় একটা অদৃশ্য ফাঁস লাগাইয়া রাখছে, যতই ফোঁস-ফাঁস করেন না কেন, ক্যামেরার সামনে তাগো প্রেসক্রিপশনের বাইরে কোনও বেফাঁস কথা কওন যাইবো না… এই ফাঁস গলায় পইড়াই ক্যামেরার সামনে কথা কইতে হয়। যেই ফাঁস যত কশা হেই ফাঁস বাবদ ঘণ্টা প্রতি দক্ষিনাও তত বেশি… হে হে …

আগন্তুকঃ  কিন্তু হাঁসের ব্যাপারটা?…  

ভানুঃ  প্রথমেই ধরেন, কখন একটা চ্যনেল থেইকা ‘ডাক’ আসবো সেই আশায় আমরা বাসায় ওঁত পাইতা বইসা থাকি। তো ইংরেজিতে ডাক মানে তো হাঁস, তাই না? তার উপর এইসব লাইভ শো তে অনেক সময়েই প্রতিপক্ষের বক্তা কিম্বা উপস্থাপক কিম্বা দর্শকেরা এমন প্রশ্ন কইরা বসেন যার উত্তর জানা নাই কিম্বা জানলেও বলতে নাই। তো এইসব আচমকা বাউন্সারের মুখে আপনারে সুদক্ষ ব্যাটসম্যানের মত ‘ডাক’ কইরা ইজ্জত সামলাইতে হইবো, আর না পারলে আপনার স্কোরশীটে, মানে ব্যালান্সশীটে আস্ত একটা গোল্ডেন ‘ডাক’ পাইবেন, বুঝলেন না? আর সর্বোপরি, ক্যামেরার সামনে আপনারে এক্কেবারে সাক্ষাৎ পরমহংসের ভাব ধইরা ইঞ্চি মাইপা নিরপেক্ষতা নিশ্চিত কইরা কথা কইতে হইবো – মানে, চোররে দুইটা গালি দিলে যার মাল চুরি হইছে তারেও গুইনা গুইনা ঠিক দুইটা গালিই দিতে হইব, চোর গনপিডানি খাইলে যার চুরি হইছে তারেও গনপিডানি দেবার জন্য দেশবাসীরে উদ্বুদ্ধ কইরা জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিতে হইবো। হে হে … নিরপেক্ষতা বইলা কথা – এক্কেরে পরমহংসের ভাব ধরতে হইবো। তো এইসব কিছু মিলাইয়াই ক্যামেরার সামনের পুরা সময়ডারে নাম দিছি ‘হাঁসফাঁসের কাল’ – হে হে, প্রথম প্রথম কিছুদিন একটু অস্বস্তি একটু লজ্জ্বা লাগলেও নগদ নারায়নের জোর সুবাসে সব লজ্জ্বা, সব অস্বস্তি খুব তাড়াতাড়িই আলোর গতিতে ছুইটা সৌরজগতের সীমানার বাইরে পালাইয়া যায়। তখন আপনেও সাকা চৌধুরীর উপদেশ মাইনা এই ‘হাঁসফাঁসের কাল’ রে ‘উপভোগ’ করতে থাকবেন হে হে… বোঝেনই তো …

আগন্তুকঃ হুম, সবই তো বুঝলাম। কিন্তু আসল ব্যাপারটাই তো খোলাসা হইলো না। তুমি না সেই আড়াই যুগ আগেই ইহলোক ত্যাগ করছো! তাইলে আমি এহন কার লগে কথা কইতাছি? বুজরুকী করো তুমি আমার লগে??!!!

ভানুঃ আরে না না, এত উতলা হইয়েন না, একটু শান্ত হন। আমি মইরা তো গেছি অনেক আগেই, কিন্তু এহনও এই ইহলোক ত্যাগ করতে পারি নাই। তাই বিভিন্ন রূপ ধারন কইরা এইদিকে একটু ঘোরাঘুরি করি আরকি…      

আগন্তুকঃ কইতাছ কি? মইরা গ্যাছো অথচ ইহলোক ত্যাগ করতে পারো নাই! মানে কি? একটু খোলাসা কইরা কও…

ভানুঃ ভাইরে, সেই আদ্যোপান্ত ইতিহাস বয়ান করতে গেলে তো বহুত সময় লাগবো। তাই আপনারে একটু সংক্ষেপ কইরা কই। আপনে তো জানেন, মরার আগে নাটকে, সিনেমায়, কৌতুকের মধ্যে অনেকবার যমরাজরে লইয়া হাসি-তামাশা করছি। এমনকি খোদ মা দুর্গা ও তাঁর পরিবার ও বাদ যায় নাই। কিন্তু যমরাজ যে এইডারে পারসোনাললি লইয়া লইবো হেইডা তো ভাবি নাই। এক্কেরে ওঁত পাইতা বইসা আছিলো, মরার সাথে সাথেই খপাৎ কইরা ঘেটি চাইপা ধইরা কইলো, চল তোর বিচার হইবো। আমি কইলাম হায় হায়, এ কী অবিচার! মরার পরেও এত বাছ-বিচার! কিন্তু কে শোনে কার কথা। টানতে টানতে লইয়া গেল এক্কেরে মহাদেবের বাসার ড্রয়িং রুমে। আমি তো কই আইজকা আমি শ্যাষ। দেখতে না দেখতেই পুরা ফ্যামিলি সমেত হর-পার্বতি বইসা গেলেন আমার বিচার করতে…

আগন্তুকঃ অ্যাঁ … কও কি! কী সর্বনাশ! তারপর কি হইলো?

ভানুঃ কী আর হইবো, যমরাজ মহা উৎসাহে সাক্ষ্য-প্রমান হিসাবে একের পর এক সিনেমার ভিডিও আর কৌতুকের অডিও টেপ চালাইতে থাকলেন। কিছুক্ষনের মধ্যেই দেখি যমরাজ বাদে বাকি সবাই হাসতে হাসতে মাটিতে শুইয়া পড়ার মত অবস্থা। তারপর, সাক্ষ্য উপস্থাপন শেষ হইলে, মা দুর্গা আমারে ডাইকা কইলো, বড় ভালো মানুষরে তুই বাছা, অনেকদিন পরে সবাই খুব আনন্দ নিয়ে হাসলাম। যা, আমাকে নিয়ে যেগুলো বানিয়েছিলি তা নিয়ে আমার কোনও ক্ষোভ নেই, আমার দিক থেকে তুই মুক্ত, এখন দেখ যমরাজ কি বলে। যমরাজ হাহাকার কইরা কাইন্দা উইঠা কইলো, মা! এই হালায় বড়ই ফাযিল, তার উপরে নাস্তিকও, আবার শুনেছি তার স্বভাব চরিত্র ও নাকি তেমন সুবিধার না। তুমি এরে মাফ করলেও আমি ছাড়ুম না। আমি কইলাম, এগুলা সব মিছা কথা। মহাদেব জিগাইলো, প্রমান কই? সার্টিফিকেট আছে? আমি কইলাম, নাই, পামু কই? মহাদেব কইলো, বেশ তবে যাও, তোমাকে ভূত রূপে আবার পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিচ্ছি। ওখান থেকে যথোপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি আস্তিকতার সার্টিফিকেট এবং একটি চারিত্রিক সার্টিফিকেট নিয়ে এসে দেখাতে পারলে তবেই তোমার মুক্তি।

আগন্তুকঃ অ্যাঁ !!?

ভানুঃ হ্যাঁ, সেই থেইকা আমি আবার পৃথিবীতে। এইবার অবশ্য ভূত হিসাবে, তবে আসার আগে মহাদেবের কাছে আবেদন কইরা কিছু বিশেষ ক্ষমতাও লইয়া আইছি। এর একটা হইলো, আমি বিভিন্ন মানুষের বেশ ধারন করতে পারি। সেই ক্ষমতার বলে অনেক গুলা ফেক আইডি খুইলা দিন রাইত ২৪ ঘণ্টা, সপ্তায় সাত দিন বিভিন্ন টক শো তে জ্ঞান বিতরন কইরা যাইতাছি… হে হে … জাউকগা, একদিনে সব কইয়া শ্যাষ করতে পারুম না।

আগন্তুকঃ তা এত দিনেও সেই সার্টিফিকেট জোগাড় করতে পারো নাই?

ভানুঃ ভাইরে, কি কমু সেই দুঃখের কথা! ভাবলাম জীবদ্দশাতে না পারলেও ভূত হওনের পর বাপ-দাদার ভিটাতেই থাকুম। আইলামও। আর এই দেশে তেমন দুইজন জবরদস্ত মানুষের সন্ধানও পাইলাম, যাঁরা কিনা আমারে ওই সার্টিফিকেট দিতে পারবেন। এঁদের একজন হইলেন এই আপনাগো বেগম ম্যাডাম, যিনি কিনা শোলাকিয়ার ইমাম সমেত লাখ লাখ কোটি কোটি মানুষরে বক্তৃতার এক খোঁচায় নাস্তিক বানাইয়া ফালাইছেন! বর্তমানে আস্তিকতার সার্টিফিকেট প্রদানকারীগো মইধ্যে তিনিই বিশ্বের এক নম্বর ব্যক্তি। কিন্তু সমস্যা হইলো, ওনার সাক্ষাৎ পাওয়া সুদূর-পরাহত। তাই বুদ্ধি কইরা ওনার বাসার সামনের পাহারারত এক গোপালি মহিলা পুলিশের বেশ ধইরা সেদিন একটু চেষ্টা করছিলাম। তারপর ভাইরে! যে ঝাড়িডা খাইলাম ওনার কাছে… তা আর না কই! চিন্তা করলে এহনও, এই যে দ্যাহেন দ্যাহেন, কেমন কাইপা কাইপা উঠি! কৌতূহল থাকলে ইউটিউবে গিয়া সেই ঝাড়ির ভিডিও দেইখা লইয়েন। এহন আশায় আছি, এই টক শো এর মাধ্যমে যদি কোনোভাবে একটু ওনার চোখে পইড়া যাই। ছাপানো সার্টিফিকেট দুইটা সব সময় সাথে নিয়াই ঘুরি, একবার দেখা করতে পারলেই টিপসইডা লইয়া লমু। মহাদেব কইয়া দিছেন, কোনও সিগনেচার ওয়ালা সার্টিফিকেট চলবো না, ফিঙ্গারপ্রিন্ট লাগবো।

আগন্তুকঃ হুম, বুঝতে পারতাছি বেশ বিপাকেই আছো। তা চারিত্রিক সনদের কি অবস্থা?

ভানুঃ হেইডার জন্য এইযে আপনাগো একজন আছে না – লোকে আদর কইরা বিশ্ব-বেহায়া বইলা ডাকে? ওনার কাছ থেইকাই চারিত্রিক সনদ নিমু বইলা ঠিক করছি। কিন্ত ভাইরে, উনি যা পিছলার পিছলা! দ্যাখতে পাই তো ধরতে পারি না, কখন কোনখানে কোন দিকে যে থাকেন তার কোনই ঠিক ঠিকানা নাই। তাই উপায়ান্তর না দেইখ্যা এক সন্ধ্যায় সাদা পোশাকের পুলিশ সাইজা গেছিলাম ওনার বাসায়। কী তাজ্জব কাণ্ড যে ঘইটা গেছিলো ভাই, কিছুই বুঝতে পারি নাই। ঠিক ওই The Mask সিনেমার Stanley Ipkiss এর মত কইরা চক্ষের পলকে দড়াম কইরা চাইর চাইরডা দো-নলা পিস্তল বাইর কইরা ফালাইলো! পরে তিনখান পিস্তল নিজের দিকে ধইরা কাইন্দা উইঠা কইলো, অন্য পিস্তলটায় একটা মাত্র গুল্লি আছে, কেউ আমার শরীলে হাত দিলে এক্কেরে সুইসাইড খাইয়া হালামু!…  আমি তো ভয়ে শ্যাষ। যমরাজ এমনিতেই খেইপা আছে, তার উপরে এই বেজাতটা যদি মরার আগেই সুইসাইড খাইয়া পরলোকে হাজির হয়, তাইলে আর এই জিন্দেগিতে যমরাজের হাত থেইকা আমার মুক্তি নাই। কালবিলম্ব না কইরা পালাইয়া বাঁচলাম। এখন ভাবতাছি কোন একদিন ICU তে গিয়া golf খেলার ছুতায় ওনার সাথে দেখা কইরা টিপসইডা লইয়া লমু।                        

আগন্তুকঃ সে তো বুঝলাম, কিন্তু … এই রকম একটা লোকের দেয়া চারিত্রিক সনদ কি কোথাও গ্রহনযোগ্য হইবো?

ভানুঃ হইবো না মানে? আলবৎ হইবো, হাজার বার হইবো। এই সার্টিফিকেটরে অগ্রাহ্য করে এমন কোনও শক্তি বিশ্ব জগতে পয়দা হয় নাই! এই যে, দ্যাহেন, এক্কেরে বড় বড় অক্ষরে ছাপানো সার্টিফিকেট, আপনারে পইড়াই শুনাই – “আমি এই মর্মে প্রত্যায়ন করিতেছি যে, উক্ত ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় কে আমি চিনি না, কস্মিন কালেও তাহার নাম শুনি নাই। এই সুদীর্ঘ জীবনে তাহাকে কোনও সময়েই আমার তিন শত গজ দূরত্বের মধ্যে দেখি নাই। অতএব, সন্দেহাতীত ভাবেই তিনি একজন চরিত্রবান ব্যাক্তি” – হে হে এহন আপনেই কন, কার বাপের সাধ্য আছে এই সার্টিফিকেট অগ্রাহ্য করার!

আগন্তুকঃ অ্যাঁ ???

ভানুঃ হ … জাউক গা, অহন উঠতে অইবো, ডাক পরছে, ‘হাঁসফাঁসের কাল’ – এর সময় হইয়া গেছে। আমার ভিসিটিং কার্ড তো দিলাম আপনারে, যোগাযোগ রাইখেন, পরে কথা হইবো …

আগন্তুকঃ ?!? 


কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ

  • পুরো লেখাটি আমার অত্যন্ত প্রিয় কৌতুককার প্রয়াত ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন কৌতুক থেকে আইডিয়া চুরি করে লেখা হয়েছে। তাঁর মঙ্গল কামনা করি।
  • একদম প্রথমে উল্লেখ করা – “ভজো দুহাত তুলিয়া…” – কীর্তনটি [ভানুঃ ঝুলিতে আট] থেকে কপি করা। এখানে সম্পূর্ণ স্মৃতিশক্তির উপর ভরসা করে লেখা হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ

  • ভানুঃ টিনের বাক্সে বারো টাকা (লিঙ্ক জানা থাকলে কমেন্টে দিন প্লীজ)
  • ভানুঃ ঝুলিতে আট (লিঙ্ক জানা থাকলে কমেন্টে দিন প্লীজ)
  • ভানুঃ দুর্গার দুর্গতি

Posted on January 2, 2014, in satire. Bookmark the permalink. Leave a comment.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

<span>%d</span> bloggers like this: