Monthly Archives: August 2014

আজ মাননীয় ম্যাডামের শুভ জন্মদিন!

15 Aug 2014

প্যাথলজিকাল লায়াররা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে ক্রমাগত মিথ্যা কথা বলে থাকেন। তাঁরা এক একজন মিথ্যাবাদীতার চরমতম উদাহরণ। কিন্তু এটাকে অপরাধ প্রবণতা হিসাবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। এটা নেহায়েত একটি বায়োলজিকাল কন্ডিশান। গড় পড়তা সাধারণ মানুষদের চেয়ে এঁদের মাথায় গ্রে-ম্যাটার এর পরিমান উল্লেখযোগ্য পরিমানে কম থাকে, এবং হোয়াইট-ম্যাটার বেশি পরিমানে থাকে। এর ফলে তাঁরা যুক্তিবোধ ও  বুদ্ধিমত্তায় গড় পড়তা সাধারণ মানুষদের চেয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে থাকেন। এটাকে একধরনের মানসিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধকতা বলা যেতে পারে।

কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব মানুষই কমবেশি মিথ্যা কথা বলে থাকেন, তাঁরা জানেন যে তাঁরা মিথ্যা কথা বলছেন। কিন্তু প্যাথলজিকাল লায়ারদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, তাঁরা তাঁদের এই মিথ্যা কথাগুলিকেও গভীর ভাবে সত্যি বলে বিশ্বাস করে থাকেন।

যেমন, বাংলাদেশের একটি বিশেষ ঘরানার লোকজনেরা প্রায়শই বলে থাকেন যে, ৭১ সালের ২৫শে মার্চের রাতে গা বাঁচানোর জন্য বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন এবং অন্যান্য নেতারা ইন্ডিয়ায় পালিয়ে গিয়ে মৌজ-ফুর্তি করে দিন কাটিয়েছেন। আর দেশের মানুষেরা “শহীদ” জিয়ার বেতার ঘোষণা শুনে যে যাঁর মত যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে ফেলেছেন।

এই মতবাদের উদ্ভাবক ছিলেন ওই “শহীদ জিয়া” ঘরানার প্রথম প্রজন্মের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা কিন্তু জানতেন যে তাঁরা একটা মিথ্যা কথা প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা জানতেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুধু ২৬ শে মার্চ ১৯৭১ থেকে ১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এ সীমাবদ্ধ নয়। এটি ১৯৪৭ এর অব্যবহিত পর থেকে শুরু হয়েছিল এবং যার চূড়ান্ত পরিনতি ১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এ। আর শেষ নয় মাসের যুদ্ধটা শুধুমাত্র বাংলাদেশের শহরে বা গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্র যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ ছিল না।  সে যুদ্ধের ক্ষেত্র বিস্তৃত ছিল বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের পুকুরপাড় থেকে শুরু করে জাতিসংঘের সদর দপ্তর এবং নিরাপত্তা পরিষদ পর্যন্ত। সে সময়কার বাঙালী নেতৃবৃন্দ এই সামগ্রিক সংগ্রামটা সঠিক ভাবে চালাতে পেরেছিলেন বলেই আমাদের অবস্থা কুর্দি কিংবা তামিলদের মত হয়নি।

তাঁরা এটাও জানতেন যে, লুকিয়ে থেকে শুধু বেতার ভাষণ দিয়ে কোনদিন আন্দোলন সংগ্রাম সফল করা যায় না।  তাই ওরকম কোনো চেষ্টাও ওই ঘরানার প্রথম প্রজন্মের নেতৃবৃন্দ কখনো করেননি। অবশ্য সেবার রেল লাইনের উপরে দাবড়ানি খাবার পর থেকে জনাব বি চৌধুরী কে আমরা আর তেমন একটা মাঠে ময়দানে দেখতে পাই না। তাঁর সমসাময়িক অন্যান্য নেতারাও আজ অনেকই হয় প্রয়াত নয়তো দলে গুরুত্বহীন কিংবা দলছাড়া। দলে আজ নতুন প্রজন্মের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব।

সমস্যা হল এই নতুন প্রজন্মের নেতা-কর্মীগণের বেশিরভাগই তাঁদের পূর্ববর্তী নেতাদের ছড়ানো মিথ্যা কথাগুলোকে গভীর ভাবে বিশ্বাস করেন এবং গলা ফাটিয়ে প্রচার করে থাকেন। যা কিনা প্যাথলজিকাল লায়ারদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই ভ্রান্ত বিশ্বাসের কারণেই তাঁরা গত নির্বাচনের আগে গোপন আস্তানা থেকে লাদেন স্টাইলে ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেবার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ফলাফল সম্পর্কে মন্তব্য নিস্প্রয়োজন।

এই সব প্যাথলজিকাল লায়ারদেরকে দুর্বৃত্ত-মনস্ক প্রাণী হিসাবে না দেখে বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী মানুষ হিসাবে দেখা অধিক সমীচীন বলে মনে করি। রাষ্ট্র ও সমাজের উচিত এঁদের প্রতি বিরূপ ভাবাপন্ন না হয়ে সহানুভূতিশীল আচরণ করা, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া এবং প্রয়োজনে যথাযথ চিকিত্সার ব্যবস্থা করা।

যাহোক, মাননীয় ম্যাডামের ঐতিহাসিক জন্মদিন উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা বাণী লিখতে বসে অনেক আবোল-তাবোল লিখে ফেললাম। আর কথা না বাড়িয়ে এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। শুভ জন্মদিন মাননীয় ম্যাডাম! আজ ১৫ই আগস্ট, আপনার জন্মদিন।

বাই দ্য ওয়ে, আপনি বিশ্বাস করেন তো?   😉

 

 

 

https://www.youtube.com/watch?v=MX3Hu8loXTE&list=TLSryJFzRDWW7uj-JrKlJAqD3vStFdyGjj